মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
মোঃ হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি,সন্দ্বীপ: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে। এসব রোহিঙ্গা আসছে পাশবর্তী ক্যাম্প ভাসানচর থেকে। সরেজমিনে উপজেলার আজিমপুর-রহমতপুর সীমানায় গিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের কাছে উঠিয়ে না দেয়ার শর্তে তারা প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে রাজি হয়।
গত কয়েকদিন আগে গুড্ডু রোহিঙ্গার নেতৃত্বে নয় জনের একটি টিম সন্দ্বীপ হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য আসে। ভাসানচর থেকে ভোর ৪ টায় হেঁটে রওনা দেয় তারা। জোয়ার না থাকায় সকাল ৮টায় সন্দ্বীপ এসে পৌঁছে। সন্দ্বীপ হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সন্দ্বীপের আজিমপুর–রহমতপুরের পুলঘাট এলাকায় শিকার হয় ছিনতাই-চাঁদাবাজির। রোহিঙ্গা যুবকদের আটক করে ভয়ের মুখে মেবাইল ফোন ও নগদ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় ৩ সদস্যের ছিনতাইকারী একটি দল। রোহিঙ্গা যুবক গুড্ডুর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ছিল ০১৮১৬৬২৭৮৮৪। যাতে এ প্রতিবেদক কথা বললে গুড্ডু পরিচয়ে কথা বলে একজন।
রোহিঙ্গা যুবক গুড্ডু জানান, প্রায় প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় দল বেঁধে রওনা দেয় রোহিঙ্গারা। কখনও ছোট নৌকায়, আবার কখনও পায়ে হেঁটে ভাটার সময় ভাসানচর থেকে রওনা দেয় তারা। সন্দ্বীপ হয়ে চট্টগ্রামে কাজের উদ্দেশ্য থাকে তাদের । কেউ কেউ আবার পাড়ি দেয় কক্সবাজার। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় আজিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রকি বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি জানি। কয়েকবার কয়েক গ্রুপকে ধরে পুলিশে হস্তান্তর করেছি।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন, ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৮০৪ জন, ২০২১ সালের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় ৩ হাজার ২৪২ জন, ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় ৩ হাজার ১৮ জন, পঞ্চম দফায় ৩ ও ৪ মার্চ ৪ হাজার ২১ জন, ষষ্ঠ দফায় ১ ও ২ এপ্রিল ৪ হাজার ৩৭২ জন, সপ্তম দফায় ২৫ নভেম্বর ৩৭৯ জন, অষ্টম দফায় ১৮ ডিসেম্বর ৫৫২ জন, নবম দফায় ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ৭০৫ জন, দশম দফায় ৩১ জানুয়ারি ১২৮৭ জন, একাদশ দফায় ১ হাজার ৬৫৫ জন ও দ্বাদশ দফায় ২৯৮২ জন এবং ত্রয়োদশ দফার ৩৫৩২ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।
এছাড়া গত ২০২১ সালের মে মাসে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সাগর থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়।জানা যায়, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।